যৌতুক না পেয়ে শিকল দিয়ে বেঁধে গৃহবধূকে নির্যাতন

39 total views, 1 views today

নিজস্ব প্রতিনিধি:: সুনামগঞ্জে যৌতুক না পেয়ে স্বামী শিকল দিয়ে বেঁধে গৃহবধূ সীমাকে নির্যাতন করার অভিযোগ উঠেছে স্বামীর বিরুদ্ধে। শুক্রবার সন্ধ্যায় সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা রঙ্গারচর ইউনিয়নের হরিনাপাটি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নির্যাতনের শিকার গৃহবধূ সীমা বেগম (১৯) হরিনাপাটি গ্রামের সেলিম মিয়ার কন্যা। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত স্বামী কাওসার মিয়া (৩০) পলাতক রয়েছে। এদিকে, আহত গৃহবধূকে গুরুতর অবস্থায় সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রায় বছর খানেক আগে হরিনাপাটি গ্রামের সেলিম মিয়ার কন্যা সীমা বেগমের সঙ্গে একই গ্রামের আলতাব আলীর মধ্যপ্রাচ্য ফেরত পুত্র কাওসার মিয়ার বিয়ে হয়।

প্রথম দিকে মাস দু’য়েক সংসার ভালোভাবেই চলছিল। পরে শুরু হয় অশান্তি। যৌতুকসহ নানা অজুহাতে সীমা বেগমকে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন শুরু করে স্বামী কাওসার। এক পর্যায়ে স্বামীর বাড়ি থেকে পিতার কাছে চলে আসে সীমা। পরে দুইবারই ক্ষমা চেয়ে স্ত্রীকে বাড়িতে নিয়ে যায় স্বামী কাওসার। কিন্তু এরপরও স্ত্রীকে নির্যাতন বন্ধ করেনি সে।

সীমা নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে শুক্রবার সন্ধ্যায় পিতার বাড়িতে চলে আসতে চান সীমা। এ সময় কাওসার, তার ভাই-বোনসহ অন্যান্য আত্মীয়-স্বজন মিলে সীমা বেগমকে দরজা বন্ধ করে শিকল দিয়ে বেঁধে কাঠের রোল দিয়ে মারধরসহ নানাভাবে নির্যাতন করেন। পরবর্তীতে ওই রাতে আহত অবস্থা গৃহবধূকে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে রেখে পালিয়ে যায় কাওসারের স্বজনরা।

আহত গৃহবধূর পিতা সেলিম মিয়ার কাছে জানা যায়, মেয়েকে দীর্ঘদিন ধরেই তার মেয়ের জামাই শারীরিক নির্যাতন করে আসছিল। যৌতুকের আবদার মেটাতে না পারায় শুক্রবার সন্ধ্যায় তার মেয়েকে শিকল দিয়ে বেঁধে কাঠের রোল দিয়ে মারধর করে কাওসার মিয়া ও তার স্বজনরা। পরে অ্যাসিড দিয়ে মুখ ঝলসে দেয়ার হুমকি দেয় তারা।

সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে দায়িত্বরত চিকিৎসক জানান, গৃহবধূকে অমানসিক নির্যাতন করা হয়েছে। সারা শরীরে নির্যাতনের চিহ্ন। তাকে বেশ কিছুদিন হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হবে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য শওকত আলী বলেন, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে অনেক দিন ধরেই কলহ চলছিল। মেয়েটি নাকি তার বাপের বাড়ি যেতে চাচ্ছিল। এজন্য স্বামী তাকে মারধর করেছে বলে শুনেছি।

এ ব্যাপারে সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ শহিদুল্লাহ বলেন, থানায় অভিযোগ দেয়া হলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

কমেন্ট
শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •