সেই মেয়েটি

আবু নছর আব্দুল হাই ছিদ্দেকী-বছলা করিমগঞ্জ, আসাম, (ভারত)::

দীর্ঘ একমাসের ছুটি শেষে বাসা থেকে হোষ্টলে আসতে এমনিতেই মন সায় দিচ্ছিল না, মনে হয়েছিল যেন এখানে কেন যাব?যাইহোক সবশেষে নিজেকে বুঝিয়ে কলকাতার উদ্দেশ্য রওয়ানা হলাম, এবার আসতে আমি একা মানে কোন বন্ধু ও ছোট ভাইও সাথে নেই , তাই সময় কাঠানোর জন্য মোবাইল আর ফেইসবুক চালানোটা সম্বল হয়ে পড়ে। বদরপুর থেকে যথারীতিতে ট্রেনটা ছাড়ল , ট্রেন চলছে আর আমি মোবাইল নিয়ে মগ্ন হয়ে ফেইসবুক চালাচ্ছি ,হঠাৎ একজন ফেবু বন্ধুর একটা স্টেটাস চোখের সামনে পড়ল ।

আমি স্টেটাসটি সঙ্গে সঙ্গে পড়ি এবং ওনেক ভাল লেগেগিয়েছিল এই লেখাটি , কিন্তু স্টেটাসটি ছিল অন্য একটি মেয়ের তিনি তা মেনসন করেছিলেন ও তার সাথে টেগও করেছিলেন। তখন আমি এই লেখাতে কমেন্ট করি তখন মনে হল ,না ওকে ফ্রেন্টরিকুয়েষ্ট দিয়ে দেই । মনে হওয়া মাত্রই ফ্রেন্টরিকুয়েষ্ট দিয়ে দিলাম। কিছু সময় পর মানে যখন ট্রেনটি হাফলং ষ্টেশনে পৌছল তখনি দেখলাম মেয়েটি আমাকে ওর বন্ধু তালিকায় যোগ করে নিয়েছে। এবার শুরু হল কথা বলা পালা , সাধারণভাবে আমি কারো সাথে কথা বলতে প্রথমে সালাম জানিয়ে কথা শুরু করি, তাই একেই ভাবে ওর সাথে কথা বলতে শুরু করলাম।কথা বলতে বলতে একসময় মনে হল যেন আমি ওর কত আপন হয়েগিয়েছি। ট্রেন যখন গুয়াহাটি ষ্টেশন থেকে ছাড়ছে তখন অণুমানিক রাত ১১ টা তখনও মেয়েটি আমার সাথে একধারে কথা বলছে। তখন মনে হল মেয়েটি এত সময় ধরে একদারে কথা বলছে আর এত তাড়াতাড়ি আমাকে এত আপন ভেবে নিয়ে আমার সাথে সব কিছু শেয়ার করে নিয়েছে , তা দেখে আমি নিজেই অবাক। এবার মনে হল ওর মোবাইল নাম্বারটা নিয়ে নেই। তখন ওকে বললাম ফোন নাম্বারের কথা , সঙ্গে সঙ্গেই ওর নাম্বারটা দিয়ে দিল আর আমার ও নাম্বারটা নিয়ে নিল।

কিছু সময় পর আমি ঘুমিয়ে যাব ভাবছি তখন রাত প্রায় ১২টার কাছাকাছি তখন হঠাৎ একটা মেসেইজ ‘হায় ‘বলে একটি নতুন নাম্বার থেকে , আমার মনে হল, কে সে এত রাত্রে হায় বলছে। আসলে ওর নাম্বারটা আমি তখনও সেইভ করি নি , তাই নতুন নাম্বার লেগেছিল। তারপর আমি কল করলাম শুরু হল কথা , কিছু সময় কথা বলার পর ও বলল ঘুমিয়ে যাব তাই ফন কেঠে নিজেও ঘুমিয়ে পড়লাম।পরের দিন সকালে ঘুম থেকে উঠে ওকে শুভ সকালে শুভেচ্ছা জানিয়ে শুরু হয় আমার কথা বলা । ট্রেন চলছে আর আমরা গল্প করছি। এদিকে ট্রেন এগোচ্ছে কলকাতার দিকে আস্তে আস্তে।

এই কম সময়ে তাহার ফোনে শুণা কথা ও স্মিত হাসি বারবার আমার চোখের সামনে ভেসে উঠতে লাগল।কিছুতেই কিছু করতে পারছিলাম না, বারবার তারই কথা ভাবতে ভাল লেগেছিল।মনের গহিন কোনে মেয়েটির জন্য মুহুর্তেই জায়গা হয়ে গেল। এভাবে কারও জন্য ভাললাগা তৈরি হবে তা কস্মিনকালেও ভাবিনি। ভাবলাম ওর সাথে কথা বলে নিজের মনের গহিনে রাখা কথাটি যায় বলা কিনা দেখব। এভাবে কল্পনার রাজত্ব্যে বিচরণ করতে করতে আর তার কথা শুণতে শুণতে কখন যে পৌছে গেলাম কলকাতাতে বুঝতেই পারলাম না।

(শুধুই কল্পনা থেকে লেখা এই গল্পটি , আমার জীবনের কোন অংশ নয় ।)

কমেন্ট
শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •