সিলেটে ফুটপাত দখল : দিনে আরিফ,রাতে হকার

125 total views, 3 views today

নিউজ ডেক্স::  সিলেট নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় হকারদের উচ্ছেদ করতে গত বছর পুরাটা ব্যস্ত সময় পার করেন সিটি মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী । কিন্তু এত কিছু করার পরও কি পারলেন দখল মুক্ত করতে?দিনের আলো যখন ধীরে ধীরে নিমজ্জিত হতে থাকে রাতে আলো যখন আসতে থাকে তখন অবৈধ দখলদারিত্ব বেড়ে যায় হকারদের।

নগরীর বিভিন্ন স্থান ঘুরে দেখা যায়, দিনে কিছুটা ফুটপাত দখলমুক্ত হলেও নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলো রাতে দখল করে নেয় হকাররা। ফলে স্বাভাবিক যানচলাচল ও জীবনযাপন করতে বাঁধাগ্রস্থ হচ্ছেন নগরবাসী।দিন যতই বাড়তে থাকে ততই নগরীর গুরুত্বপূর্ণ ফুটপাত দখল করে নিচ্ছে হকাররা। ফলে রাজত্ব বেড়ে যাচ্ছে ফুটপাত দখলে হকারদের।

এসব কারণে জনজীবনে ভোগান্তি সৃষ্টি হচ্ছে বলে একাধিক পথচারী অভিযোগ করে বলেন, যেখান দিয়ে সাধারণ জনগণ চলা ফেরার কথা সেই রাস্তায় হকারদের বিভিন্ন দোকান বসিয়ে রয়েছে। ফলে জনগণ ফুটপাত ব্যবহার না করে মেইন সড়ক দিয়ে যাতায়াত করতে হয়। এতে জনগনকে নানা ভোগান্তিতে পড়তে হয়। সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত নগরীর প্রধান প্রধান সড়কে যানজট লেগে রয়েছে কোনো কিছুতে যেনো থেমে নেই।

কুদরত উল্ল্যা মার্কেটের সামন থেকে মধুবন সুপার মার্কেটের সামনে রাস্তার মধ্যখানে ফেরিওয়ালারা বিভিন্ন দ্রব্যমূল্য বিক্রি করছে। সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত সিটি কপোরেশনের ভয়ে কম দেখা গেলেও সন্ধ্যা হওয়ার সাথে সাথে দখলদারিত্ব বেড়ে যায় হকারের। ফলে ফুটপাত দিয়ে যেতে চাহিলেও সকল জায়গা হকারদের উপছে পড়া ভিড় লেগেই থাকে। তাই সন্ধ্যা ও রাতে নগরীকে দেখে মনে হয় হকারদের দখলে রয়েছে। এমন চিত্র দেখে মনে হচ্ছে “দিনে আরিফ; রাতে হকার”। কেননা দিনে কিছুটা হলেও কম দেখা যায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সিসিকির ভয়ে হকারদের কিন্তু রাতেই তারা তাদের রাজত্ব ঠিকই করে থাকে। হকারদের এই কর্মকান্ডে দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। নগরীর এমন কোনো স্থান নেই যে হকাররা বসে নেই রাস্তা দিয়ে চলাচল করতে অসুবিধা, যানজট সৃষ্টি করা থেকে সব কিছুতে এগিয়ে হকাররা।

অথচ সিসিক এর পক্ষ থেকে দেওয়ালে লাগানো হয়েছে পোষ্টার যেখানে লেখা রয়েছে “হকারদের বসা নিষেধ” সেখানে হকাররা বসে ব্যবসা করছে। কোথাও কোথাও এসব পোষ্টার ছিড়ে ফেলা হয়েছে।

ফিরে দেখায় অলোচনার শীর্ষে ছিল নগরীর ফুতপাত দখলে হকার।

বিগত বছরজুড়েই সিলেটবাসী ভোগান্তিতে ছিলেন সিলেটের ফুটপাত নিয়ে। ফুটপাত নিয়ে নগরবাসীর ভোগান্তি আর আরিফের ‘ব্যর্থতা’য় শেষ পর্যন্ত বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ায়। ফুটপাত দখলমুক্ত করতে মেয়র আরিফ এবং কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা গৌছুল হোসেনকে নিয়ে কমিটিও গঠন করা হয়।

বিগত বছরজুড়ে পুরো নগরীর ফুটপাতগুলো ছিলো হকারদের দখলে। কিছু কিছু জায়গায় ফুটপাত ছাড়িয়ে রাস্তার দখল ছিলো হকারদের। মেয়র আরিফ হকারদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও উচ্ছেদ করতে পারেননি হকারদের।

একদিকে মেয়রের তাড়া খেয়ে, কিছুক্ষণ পর তারা আবার ফুটপাত দখল করে নেয়। এটাকে মেয়রের ‘ব্যর্থতা’ হিসেবে দেখেছেন সিলেটবাসী।

ফুটপাতকে দখলমুক্ত করার দাবীতে কয়েকটি সামাজিক সংগঠন সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে মানববন্ধন করেছে এবং জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপিও প্রদান করেছেন। মেয়র আরিফও ফুটপাতকে দখলমুক্ত করতে প্রশাসনের পাশাপাশি নগরবাসীর সহায়তা চেয়েছিলেন।

ফিরে দেখা-ফুটপাত দখলমুক্ত করতে গত বছরজুরেই মাঠে ছিলেন মেয়র আরিফ। কখনো রোদে পুড়ে, কখনো বা বৃষ্টিতে ভিজেও ফুটপাত দখলমুক্ত করার অভিযানে নেমে ছিলেন তিনি। হাতে লাঠি নিয়ে তাড়িয়েছেন অবৈধ হকারদের। কিন্তু আরিফের তাড়া খেয়ে একদিকে তারা সরে গেলেও অন্যদিকে দখল করে বসেছে ফুটপাত।

মেয়র আরিফকে আদালতের নির্দেশ সিলেট জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট হোসেন আহমদ ফুটপাত দখলমুক্ত করতে আবেদন করেন আদালতের কাছে। এ আবেদনের প্রেক্ষিতে সিলেটে জেলা জজ কোর্টের মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতের বিচারক মো. সাইফুজ্জামান হিরো সিলেট নগরীর ফুটপাতের অবৈধ দখলদার ও দখলের নেপথ্যে থাকা প্রভাবশালীদের নাম জানাতে সিলেট সিটি কপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীকে নির্দেশ দেন। এ কাজে মেয়রকে তদন্তকাজে সক্রিয় সহযোগিতা করার কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকেও নির্দেশ দেন আদালত।

কমেন্ট
শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •