স্কুলে বেতন-ফি নিয়ে কথাকাটাকাটি, অভিভাবককে বেঁধে মারধর

নিউজ ডেক্স:: কক্সবাজার সদরের ঝিলংজা খরুলিয়া এলাকায় কেজি অ্যান্ড প্রি-ক্যাডেট স্কুলে বেতন-ফি বৃদ্ধি নিয়ে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে মো. আয়াতুল্লাহ (৪০) নামের এক অভিভাবককে বেঁধে মারধর করা হয়েছে।

রোববার ওই অভিভাবকের ওপর এই নির্যাতন চালানো হয়। আয়াতুল্লাহ ঝিলংজা ইউনিয়নের খরুলিয়া বাজারপাড়ার কবির আহমদের ছেলে।

মো. আয়াতুল্লাহ অভিযোগ করেন, কেজি অ্যান্ড প্রি-ক্যাডেট স্কুলে এ বছর বেতন ৫০ টাকা বাড়িয়ে ২৫০ টাকা আর ভর্তি ফি ৪০০ টাকা বাড়িয়ে এক হাজার টাকা করা হয়েছে। আমি আমার ছেলে শাহরিয়ারকে রোববার সকালে দ্বিতীয় শ্রেণিতে ভর্তি করাতে নিয়ে যাই। এ সময় বেতন-ফি বাড়ানোর কারণ জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক বোরহান উদ্দিন রেগে ওঠেন।

তিনি জানান, কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে প্রধান শিক্ষক বোরহানউদ্দিন কয়েকজনকে ফোন করেন। এরপর সেখানে পাশের খরুলিয়া উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জহিরুল হক তার স্কুলের ছাত্রদের নিয়ে ঘটনাস্থলে এসে কেজি স্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতি এনামুল হকসহ আরো কয়েকজন আমাকে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি-লাথি মারেন। এরপর তারা তার হাত-পা রশি দিয়ে বেঁধে টেনে-হিঁচড়ে ও পিটিয়ে নির্যাতন করেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আয়াত উল্লাহকে এমনভাবে মারা হচ্ছে যেন তিনি একজন বড় সন্ত্রাসী। মধ্যযুগীয় কায়দায় তাকে নির্যাতন করা হলেও কোন শিক্ষক বা ছাত্রছাত্রী তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে যায়নি। পরে তার চিৎকার শুনে স্কুলের আঙিনায় গিয়ে পৌঁছে পথচারীরা। শিক্ষক-ছাত্রদের পায়ের নিচ থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়। পরে এ ঘটনার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে এলাকাবাসী।

মো. আয়াতুল্লাহ আরো বলেন, নির্যাতনের পরে তারা আমাকে খরুলিয়া উচ্চবিদ্যালয়ের একটি কক্ষে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় বেলা আড়াইটা পর্যন্ত আটকে রাখে। আড়াইটার দিকে আমার আত্মীয়স্বজন ঘটনাস্থলে আসার পর এনামুলসহ দুই প্রধান শিক্ষক মিলে অলিখিত একটি স্যাম্প পেপারে জোরপূর্বক সই নিয়ে আমাকে ছেড়ে দেন।

এ বিষয়ে খরুলিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জহিরুল হক বলেন, আয়াত উল্লাহ আমাদের স্কুলের ছাত্র ছিল। বেয়াদবি করায় তাকে এমন শাস্তি দেয়া হয়েছে। এমনকি আর কোনদিন ‘বেয়াদবি করবে না’ মর্মে মুচলেকায় তাকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে কক্সবাজার সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নোমান হোসেন বলেন, শিক্ষকদের কাছ থেকে এমন আচরণ আশা করা যায় না। এটি চরমভাবে মানবাধিকারের লঙ্ঘন। ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় আনা দরকার।

কমেন্ট
শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •