সাধ্য থাকলে নির্বাচন ঠেকান

36 total views, 1 views today

নিউজ ডেক্স:: ৫ই জানুয়ারি বিএনপির রাজনৈতিক আত্মহত্যা দিবস বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, আজকে একদিকে জনগণের গণতন্ত্রের বিজয় দিবস, অন্যদিকে সাম্প্রদায়িক শক্তির আত্মহত্যা দিবস।

আগামী নির্বাচনে অংশ না নিলে আরেকবার আত্মহত্যা দিবস পালন করতে হবে। আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, সময় ও স্রোত কারো জন্য অপেক্ষা করে না। নির্বাচন বিএনপি বা কারো জন্য বসে থাকবে না। সংবিধান অনুযায়ী যথাসময়ে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আপনাদের (বিএনপি) ঠেকানোর সাধ্য থাকলে দেখান।

শেখ হাসিনার নেতৃত্বে জনগণ আপনাদের প্রতিহত করবে। গতকাল বিকালে রাজধানীর বনানী মাঠে ৫ই জানুয়ারি গণতন্ত্র রক্ষা দিবস উপলক্ষে ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় তিনি এ মন্তব্য করেন। গণতন্ত্র প্রগতি উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি প্রতিষ্ঠার অভিযাত্রায় দিনটির গুরুত্ব অপরিসীম বলে মনে করে দলটি। দিবসটি উপলক্ষে সংগঠনের জেলা, মহানগর, উপজেলা ও থানা পর্যায়ে বিজয় র‌্যালি ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে বেলা ৩টায় রাজধানীর বনানীতে আওয়ামী লীগ ঢাকা মহানগর উত্তর এবং ২৩ বঙ্গবন্ধু এভিনিউ প্রাঙ্গণে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের উদ্যোগে বিজয় র‌্যালি ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এসব কর্মসূচিতে দলের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া আওয়ামী লীগের সব জেলা, মহানগর, উপজেলা ও থানাসমূহে ৫ই জানুয়ারির এই কর্মসূচি পালন করে। দেশব্যাপী এই কর্মসূচিতেও কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ অংশ নেন। বনানীর অনুষ্ঠানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ-এর সমালোচনা করে ওবায়দুল কাদের বলেন, বহুরূপী ব্যারিস্টার সাহেব, আপনাদের সকলে চেনে। দেশে একটু ঝড়-ঝঞ্ঝা দেখলে বিদেশে গিয়ে পালিয়ে থাকেন। ভুয়া কাগজপত্র দিয়ে বাড়ি দখল করতে গিয়ে আদালতে ধরা খেয়ে রাস্তায় কান্না করেছেন। এই লোক যদি দেশের আইনমন্ত্রী হয়, দেশের বারোটা বেজে যাবে।

ওবায়দুল কাদের বলেন, সংবিধান সুরক্ষা দিবস, আজ ঢাকা শহর মিছিলের নগরী। সব রাস্তায় মিছিল আর মিছিল। গণতন্ত্র রক্ষা দিবসে আজ আমাদের শপথ-অঙ্গীকার বাংলাদেশে গণতন্ত্রকে বাঁচাতে হলে, আওয়ামী লীগকে বাঁচাতে হবে। তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধকে বাঁচাতে হলে, স্বাধীনতার চেতনাকে বাঁচাতে হলে আওয়ামী লীগকে বাঁচাতে হবে। গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে হলে, আওয়ামী লীগকে শক্তিশালী করতে হবে। দেশে উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে হলে শেখ হাসিনাকে আরেকবার ক্ষমতায় আনতে হবে। এ সময় শেখ হাসিনার নেতৃত্বে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সামপ্রদায়িক অপশক্তিকে পরাজিত করে মুক্তিযুদ্ধের ধারায় নৌকা বিজয়ী হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন ওবায়দুল কাদের। মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সভাপতি একেএম রহমতুল্লাহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জনসভায় উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য সাহারা খাতুন, ফারুক খান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ, সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য হাবিবুর রহমান সিরাজ, উত্তরের সাধারণ সম্পাদক সাদেক খান প্রমুখ। এদিকে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের সামনে ‘গণতন্ত্রের বিজয় দিবস’ উপলক্ষে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের জনসভায় ওবায়দুল কাদের বলেন, নির্বাচনি ট্রেন বিএনপির স্টেশনে থামবে না।

বিএনপি নির্বাচনে অংশ না নিলে তাদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ অন্ধকার হয়ে যাবে। বিরল প্রাণীর মতো বিলুপ্ত হয়ে যাবে বিএনপি। পৃথিবীতে অনেক রাজনৈতিক দল বিলুপ্ত হয়ে গেছে। তাদের অবস্থা মুসলিম লীগের চেয়েও খারাপ হয়ে যাবে। জনসভায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেনের সমালোচনা করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ড. কামাল হোসেন ও খালেদা জিয়া সরকার ও সংসদকে অবৈধ হিসেবে অভিহিত করেছেন। কিন্তু বিশ্বের দুটি বড় আন্তর্জাতিক সংস্থা ইন্টার পার্লামেন্টারি ইউনিয়ন (আইপিইউ) ও কমনওয়েলথ পার্লামেন্টারি অ্যাসোসিয়েশন (সিপিএ) বাংলাদেশের পার্লামেন্টকে স্বীকৃতি দিয়েছে। শুধু তাই নয়, এ দুটি সংস্থার প্রধানও করা হয়েছে সংসদ সদস্য সাবের হোসেন চৌধুরী ও বাংলাদেশের সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীকে। তাহলে কীভাবে গণতন্ত্রের সংকট আছে? আপনারা নির্বাচনে অংশ নেননি। গণতন্ত্র যদি না থাকতো তাহলে কী তারা বাংলাদেশ স্বীকৃতি দিতো? পদ্মা সেতুকে জোড়াতালি দিয়ে বাসানো হচ্ছে বলে খালেদা জিয়ার মন্তব্যের জবাবে তিনি বলেন, সেখানে পিলার উঠেছে, পিলারের ওপরের দুটি স্প্যান বসেছে, এটা তো এখন দৃশ্যমান। আর সেতুতে তো জোড়াতালি লাগবেই, জোড়াতালি ছাড়া তো সেতু হবে না। জোড়াতালি ছাড়া কি সেতু হয়? খালেদা জিয়ার ‘পদ্মা সেতুতে কেউ উঠবে না’ মন্তব্যের জবাবে তিনি বলেন, পদ্মা সেতুতে সবাই উঠবে, উনি না উঠলে ফেরি আছে, ফেরিতে করে যেতে পারেন। সাবমেরিন উদ্বোধনের পরই ডুবে গেছে খালেদা জিয়ার এমন মন্তব্যের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, সাবমেরিন তো ডুবেই থাকে। মামলায় হাজিরা দিতে দিতে উনার (খালেদা জিয়ার) মাথা নষ্ট হয়ে গেছে। তাই তিনি এসব বলেছেন। শনিবার (৬ জানুয়ারি) বিএনপির ডাকা আন্দোলন কর্মসূচির প্রসঙ্গে ওবায়দুল কাদের আরও বলেন, বিএনপি নেতাদের ক্ষোভ-কর্মীরা মাঠে নামে না।

কর্মীদের ক্ষোভ-নেতারা মাঠে নামে না। নেতারা বলে কর্মীরা, আবার কর্মীরা বলে নেতারা। তাহলে কাল তাদের বিক্ষোভ করবে কে?’ কিছু কর্মী মাঝে মাঝে রাস্তায় নামলেও নেতারা এসি রুমে বসে হিন্দি ছবি দেখে সময় কাটান বলেও মন্তব্য করেন তিনি। বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আয়োজিত জনসভায় সভাপতিত্ব করেন মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল হাসনাত।

এসময় আরও বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ড. আবদুর রাজ্জাক, সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম ও এনামুল হক শামীম, বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন, উপ-প্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিনসহ আরও অনেকে। এছাড়া ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা বক্তব্য রাখেন।

কমেন্ট
শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •