স্মিথ-নামা, আধুনিক ক্রিকেটের সেরা ব্যাটসম্যান?

40 total views, 1 views today

স্পোর্টস ডেক্স:: ক্রিকেটের কঠিনতম পরীক্ষার নাম টেস্ট। ম্যাচ টেম্পারামেন্ট, টেকনিক আর ক্রিকেটীয় বুদ্ধিমত্তার সর্বোচ্চ পরীক্ষা দিতে হয় এখানে। কিন্তু এই কঠিন পরীক্ষাকেই যদি কেউ ভীষণ সহজ বানিয়ে ফেলেন, তবে তাঁর ক্রিকেটীয় শক্তিমত্তার প্রশংসা করতেই হয়। এক ব্যাটসম্যান টানা চার বছর ধরে টেস্টে এক হাজারের বেশি রান করে চলেছেন। কি দেশ, কি দেশের বাইরে—সাদা পোশাকে যেখানেই ব্যাট করতে নেমেছেন, রানের ফোয়ারা ছুটিয়েছেন। একজন ‘লেগ স্পিনার’ ব্যাটসম্যানদের টেস্ট র‍্যাঙ্কিংয়ের এক নম্বরে রীতিমতো খুঁটি গেড়ে বসেছেন। নাহ, স্টিভেন স্মিথকে নিয়ে যত প্রশংসাই করা হোক, কম পড়ে যাবে।

ক্যারিয়ারের শুরুটা লেগ স্পিনার হিসেবে। ওয়ানডে অভিষেকে ব্যাট করা হয়নি, বল হাতে উইকেট নিয়েছিলেন ২টি। টেস্ট অভিষেকে ব্যাট করেছিলেন নয়ে, দুই ইনিংস মিলিয়ে মোট রান ১৩ আর উইকেট ৩টি। কিন্তু ভোরের সূর্য দেখে সব সময় দিন কেমন হবে তা বলতে নেই। অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি, সেদিনের সেই অপ্রথাগত ব্যাটসম্যানই ৬০ টেস্টে ১১০ ইনিংসে ৫৯৭৪ রান করেছেন। ২৩ সেঞ্চুরি আর ২২ ফিফটিতে গড় দাঁড়িয়েছে ৬৩.৫৫!

অপ্রথাগত ব্যাটিং বিষয়টা ব্যাখ্যা করা যাক। ধ্রুপদি ব্যাটিংয়ের ব্যাকরণে স্মিথের ব্যাটিংকে মাপা যায় না। প্রতিটি বলেই লেগ স্টাম্প থেকে সরে এসে অফ স্টাম্পে দাঁড়ান। বল প্যাডে লাগলেই নিশ্চিত এলবিডব্লিউ, এরপরও ব্যাটেই খেলছেন অধিকাংশ বল। ব্যাটের লিফটও অদ্ভুত, লম্বভাবে নয় বরং প্রথম স্লিপ থেকে ব্যাট টেনে আনেন। এমন অদ্ভুতুড়ে ব্যাটিং দেখে লেন হাটন, অ্যান্ডি স্যান্ডহামরা কী বলতেন বলা মুশকিল। কিন্তু আধুনিক ক্রিকেট কিংবদন্তিদের কাছ থেকে নিয়মিত প্রশংসা আদায় করছেন। পূর্বসূরি স্টিভ ওয়াহ তো বলেই দিয়েছেন, ইতিহাস নতুন করে লিখবেন স্মিথ।

টেস্টে সর্বশেষ চার বছরে নজর দেওয়া যাক। ২০১৪ সালের প্রথম টেস্ট, সিডনিতে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে করলেন ১১৫ রান। বছরজুড়ে ৫ সেঞ্চুরি আর ৪ ফিফটিতে ১ হাজার ১৪৬ রান করেছিলেন। ২০১৫ সালে ৬ সেঞ্চুরি আর ৫ ফিফটিতে ১৪৭৪ রান। এর মধ্যে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে কিংসটনে ১৯৯ রানে আউট হয়েছিলেন তিনি। এরপর ইংল্যান্ডে অ্যাশেজ খেলতে গিয়ে লর্ডসে হাঁকালেন ২১৫। গত চার বছরে সবচেয়ে কম সেঞ্চুরি করেছেন ২০১৬-তে। মোট ১০৭৯ রান করার বছরে সেঞ্চুরি ‘মাত্র’ ৪টি। আর এ বছর আবারও ৬ সেঞ্চুরি হাঁকান ‘অতিমানবিক’ স্মিথ। ৬ সেঞ্চুরি আর ৩ ফিফটিতে ১৩০৫ রান করলেন অস্ট্রেলীয় অধিনায়ক। এর মধ্যে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ক্যারিয়ার-সেরা ২৩৯ রান আর ভারতের বিপক্ষে ধর্মশালায় ১১১ রানের কথা আলাদা করেই বলতে হচ্ছে। বেঙ্গালুরু টেস্টেও দ্বিতীয় ইনিংসে স্মিথ ২৮ রান করে আউট হতেই প্রায় জেতা টেস্ট হেরে বসেছিল অস্ট্রেলিয়া।

অস্ট্রেলীয়দের চোখে কিংবদন্তি হওয়ার পথেও অনেক এগিয়ে গেছেন স্মিথ। তাঁর যে প্রিয় প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ড। ৪০ ইনিংসে ১৯৪৩ রান করেছেন থ্রি লায়ন্সদের বিপক্ষে। এরপরই ভারত, ২০ ইনিংসে করেছেন ১৪২৯ রান। তবে গড়ের বিচারে প্রিয় শিকার ক্যারিবীয় বোলাররা। তাঁদের বিরুদ্ধে ৭ ইনিংসে ১৬৫.৬৬ গড়ে ৪৯৭ রান করেছেন স্মিথ। আর সবচেয়ে কঠিন প্রতিপক্ষ? বাংলাদেশ। ৪ ইনিংসে ১১৯ রান করেছেন তিনি, সর্বোচ্চ ৫৮ রান করেছিলেন এ বছর চট্টগ্রাম টেস্টে।

স্মিথ-বন্দনা শেষ হওয়ার নয়। আগামী বছর এমন ফর্ম কি ধরে রাখতে পারবেন স্মিথ? জানুয়ারি ৪ থেকে শুরু হতে যাওয়া সিডনি টেস্টেই তাঁর লক্ষণ বুঝে যাবেন।

কমেন্ট
শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •