নতুন কর্মস্থলে যোগ না দিয়ে উপায় নেই

36 total views, 1 views today

নিউজ ডেক্স:: রাজধানী ঢাকা থেকে জেলা-উপজেলা পর্যায়ে হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেবদলি হওয়া চিকিৎসকরা নতুন কর্মস্থলে যোগদান না করে চাকরি বাঁচাতে পারবেন না। ২১ ডিসেম্বর স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দুটি আদেশে রাজধানীর বিভিন্ন সরকারি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের ১১০ জন চিকিৎসককে ঢাকার বাইরে বদলি করা হয়। এ আদেশের পর চিকিৎসক মহলে কিছুটা উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হলেও তা দ্রুত নিরুত্তাপ হয়ে গেছে। কারণ বদলি ঠেকাতে কোনো আপত্তি আমলে নিচ্ছে না মন্ত্রণালয়। চিকিৎসকদের দুটি সংগঠনের শীর্ষনেতারা নীরব ভূমিকা পালন করায় নতুন কর্মস্থলে যোগদান না করে কোনো উপায় দেখছেন না চিকিত্সকরা।

এ প্রসঙ্গে স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) সভাপতি অধ্যাপক ডা. এম ইকবাল আর্সলান যুগান্তরকে বলেন, সরকারি চাকরি করতে হলে সরকারি আইন মেনে চলতে হবে। এখানে কোনো আপত্তি চলবে না। তাছাড়া প্রধানমন্ত্রী নিজে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন। বৃহস্পতিবার এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নতুন কর্মস্থলে নির্দষ্টি সময়ে চিকিৎসকরা যোগদান না করলে তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

স্বাস্থ্য অধিদফতর সূত্র জানায়, বদলি হওয়া চিকিৎসকরা অনেক সময় রাজনৈতিক প্রভাবসহ নানা ধরনের প্রভাব খাটাতেন। এ কারণে অনেককে ঢাকার বাইরে কখনও দায়িত্ব পালন করতে হয়নি। এমনকি দিনের পর দিন তারা সংযুক্তি নিয়ে ঢাকায় কাটিয়ে দিয়েছেন। কিন্তু এবার স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের প্রত্যক্ষ নির্দেশনায় তাদের বদলি করা হয়। এক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীরও সম্মতি রয়েছে। তাই বদলি আদেশের পর কেউ কেউ তদবির করার চষ্টো করলেও তা ফলপ্রসূ হয়নি। বদলি আদেশে দেখা যায়, বদলি হওয়া চিকিত্সকদের মধ্যে অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক, সহকারী অধ্যাপকের সংখ্যা ২৩। সিনিয়র কনসালটেন্ট ও জুনিয়র কনসালটেন্ট রয়েছেন ৮৭ জন। এসব চিকিত্সকের বেশিরভাগই প্রকৃত কর্মস্থল ঢাকার বাইরে হলেও তারা দীর্ঘদিন ধরে সংযুক্তি নিয়ে রাজধানীতে কর্মরত ছিলেন।

এ প্রসঙ্গে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ও স্বাচিপ নেতা অধ্যাপক ডা. উত্তম বড়ুয়া যুগান্তরকে বলেন, বদলি ঠেকাতে স্বাচিপের পক্ষ থেকে বিভিন্নভাবে যোগাযোগ করা হয়। তবে মন্ত্রণালয় সিদ্ধান্তেঅনড়। ১১০ জন চিকিৎসকের মধ্যে ৩৫ জন সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ থেকে বদলি করা হয়েছে। এক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষ আরেকটু ভেবে দেখতে পারত বলে তিনি মন্তব্য করেন। ডা. উত্তম আরও জানান, এবারের বদলির ক্ষেত্রে কোনো সুপারিশে কাজ হবে না জেনে এরই মধ্যে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের চিকিৎসকসহ অনেক চিকিৎসক বর্তমান কর্মস্থল থেকে রিলিজ নিয়েছেন। অনেকে নতুন কর্মস্থলে যোগদানও করেছেন।

মাত্র এক সপ্তাহের সময়সীমা বেধে দিয়ে চিকিৎসকদের রাজধানীর বাইরের মেডিকেল কলেজ, জেলা হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যোগদানের নির্দেশ দেয়া হয়। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বেঁধে দেয়া সময়সীমা ছিল ২৭ ডিসেম্বর। সেখানে বলা হয়, এ সময়ের মধ্যে নতুন কর্মস্থলে কেউ যোগদান না করলে ২৮ ডিসেম্বর থেকে বর্তমান কর্মস্থলে তাত্ক্ষণিকভাবে তিনি অবমুক্ত বলে গণ্য হবেন এবং সেখান থেকে কোনো বেতন-ভাতা পাবেন না। বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদফতর এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের একাধিক সূত্র জানায়, এরই মধ্যে কেউ কেউ নতুন কর্মস্থলে যোগদান করেছেন। বাকিরা শিগগিরই যোগদান করবেন বলে আশা করছে কর্তৃপক্ষ।

এ প্রসঙ্গে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেন, দেশের গ্রামপর্যায়ের চিকিত্সাসেবাকে শক্তিশালী করতে সরকার উপজেলা পর্যায়ে চিকিৎসক বাড়ানোর সদ্ধিান্ত নিয়েছে। রাজধানী থেকে বেশ কয়েকজন চিকিত্সককে উপজেলা পর্যায়ে বদলি করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী তৃণমূল পর্যায়ের স্বাস্থ্য সেবার দক্ষতা বাড়াতে এত চিকিত্সককে উপজেলায় পদায়ন করা হয়েছে। এক্ষেত্রে কোনো তদবির না করে অবিলম্বে নতুন কর্মস্থলে চিকিৎসকদের যোগদান করতে তিনি পরামর্শ দেন।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদফতর সূত্র জানায়, সম্প্রতি ঢাকার বাইরের বিভিন্ন মেডিকেল কলেজ, জেলা ও উপজেলা হাসপাতালের চিকিত্সকদের সম্পর্কে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করা হয়েছে। এতে দেখা যায়, নিয়মিত বেতন-ভাতা উত্তোলন করা সত্ত্বেও শতাধিক চিকিৎসক কর্মস্থলে দায়িত্ব পালন করেন না। নানা প্রভাব খাটিয়ে তারা প্রথমে স্বাস্থ্য অধিদফতরে ওএসডি ও রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে সংযুক্তি নিয়ে থাকেন। ফলে ঢাকার বাইরের বিভিন্ন মেডিকেল কলেজ, জেলা সদর ও উপজেলা হাসপাতালে বিশেষজ্ঞ চিকিত্সক ও শিক্ষকের সংকট দেখা যায়।

কমেন্ট
শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •