ভারতকে হারিয়ে বাংলাদেশ অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন

স্পোর্টস ডেক্স:: জাতীয় পতাকা হাতে দর্শকদের মেলা বসেছিল। ভুভুজেলার সঙ্গে দশ হাজার দর্শকের সমস্বরে চিৎকারে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরেছিল কমলাপুরের বীরশ্রেষ্ঠ সিপাহি মোস্তফা কামাল স্টেডিয়ামে। উপস্থিত দর্শকদের হতাশ করেননি বাংলাদেশের মেয়েরা।

সাফ অনূর্ধ্ব-১৫ মহিলা চ্যাম্পিয়নশিপের প্রথম আসরেই ভারতকে ১-০ গোলে হারিয়ে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন স্বাগতিক মেয়েরা। জয়সূচক একমাত্র গোলটি করেছেন শামসুন্নাহার। সাউথ এশিয়ান ফুটবলে এটি বাংলাদেশের তৃতীয় শিরোপা।
এর আগে ২০০৩ সালে ঢাকায় সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে শিরোপা জিতেছিল লাল সবুজের প্রতিনিধরা। দ্বিতীয়টি এসেছিল সিলেটে সাদ নিপুনের হাতধরে সাফ অনূর্ধ্ব-১৬ চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা জয়ের মধ্য দিয়ে। এর আগে এএফসি অনূর্ধ্ব-১৪ আঞ্চলিক চ্যাম্পিয়নশিপে দুটি শিরোপা জিতেছে বাংলাদেশের মেয়েরা।

ম্যাচে বাংলাদেশের উৎসবের উপলক্ষ এসেছিল ম্যাচের প্রথম মিনিটেই। সুযোগ সন্ধানী আনুচিং গোলও করেছিলেন। কিন্তু অফসাইডের অজুহাতে বাতিল করেছেন ভুটানিজ রেফারি চকিং ওম। তবে বেশিক্ষণ দর্শকদের অপেক্ষায় রাখেনি মারিয়া-তহুড়ারা। ম্যাচের ৪২ মিনিটে সংঘবদ্ধ আক্রমণ থেকে স্বাগতিকদের লিড এনে দেন ডিফেন্ডার সামসুন্নাহার। তার গোলেই বিজয়ের হাসি হাসে বাংলাদেশ। শুধু শিরোপাই নয়, টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের মেয়েদের জয়জয়কার। টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড় হয়েছেন ডিফেন্ডার আখি খাতুন। ফেয়ার প্লের পুরস্কারও উঠেছে বাংলাদেশের হাতে।

সাফের সেরা হওয়ার আভাস গ্রুপ পর্বে দিয়েছিল বাংলাদেশ। যার শুরুটা হয়েছিল নেপালকে ৬-০ গোলে হারানোর মধ্য দিয়ে। ভুটানকে ৩-০ গোলে হারিয়ে ফাইনাল নিশ্চিত হয় স্বাগতিকদের। পরের ম্যাচে ভারত বধে ফাইনালের জ্বালানি পায় মারিয়া- তহুড়ারা। সেই জ্বালানি নিয়ে গতকালের শুরুটা হয় বাংলাদেশের। প্রথম থেকে আক্রমণাত্মক খেলতে থাকে মারিয়া বাহিনী। আধিপত্য বিস্তার করে প্রতিপক্ষের ওপর চড়াও হয়েছে। তবে আক্রমণে এগিয়ে থেকেও এবার এক গোলের বেশি আসেনি। প্রতিপক্ষ ভারতের রক্ষণভাগ আগের চেয়ে শক্ত করে খেলায় তহুড়া-মনিকারা একাধিক গোল বের করে আনতে পারেননি।

প্রথম মিনিটেই মার্জিয়ার ক্রসে গোলরক্ষকের হাত ফসকে বল বের হলে তহুড়ার শট জালে জড়ায়। উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়লেও সেটা বেশিক্ষণ থাকেনি। কারণ ফাউলের কারণে গোলটি বাতিল করেন ভুটানের রেফারি চকিং ওম। তবে ভেঙে পড়েনি স্বাগতিকরা। সুযোগ পায় কয়েকবার। ৬ মিনিটে মার্জিয়ার বাঁ প্রান্ত থেকে কর্নারে আনুচিং মোগিনির হেড গোলবারের ওপর দিয়ে যায়। ১৬ মিনিটে ডান প্রান্তের ক্রসে আনুচিংয়ের হেড চলে যায় পোস্টের বাইরে। আনুচিং ২২ মিনিটে গোলরক্ষককে একা পেয়েও তার গায়ে মেরে সুযোগ নষ্ট করেন। তহুড়া ভারতের দু’জনকে কাটিয়ে বাঁ দিক দিয়ে বক্সে ঢুকে যান, কিন্তু ৩২ মিনিটে তার নেয়া ওই কোনাকুনি শট শেষ পর্যন্ত ঠিকানা খুঁজে পায়নি। সাইডবার ঘেঁষে বল চলে যায় বাইরে।

এত সুযোগ নষ্ট করা বাংলাদেশ শেষ পর্যন্ত উদযাপনে মাতে ৪১ মিনিটে। ডান দিক দিয়ে আক্রমণে উঠে শামসুন্নাহারের বাড়ানো বলে আনুচিংয়ের শট গোলরক্ষক মনিকা দেবীর পায়ে লেগে ফেরে। ফিরতি শটে ডিবক্সে থেকেই টোকা দিয়ে লক্ষভেদ করেন শামসুন্নাহার। দ্বিতীয়ার্ধেও প্রথম মিনিটে মার্জিয়ার কর্ণারে আনুচিংয়ের হেড ক্রসপিস ঘেঁষে বাইরে চলে যায়। এক গোলে লিড নিয়ে এই অর্ধে যেন আক্রমণের ঝাঁপি খুলে বসে বাংলাদেশ। বামদিক দিয়ে শামসুন্নাহার অন্য প্রান্ত দিয়ে মার্জিয়া ব্যতিব্যস্ত করে রাখে ভারতের রক্ষণভাগ।

এই দুই ফরোয়ার্ডেও বেশিরভাগ বল জোগান দিয়েছেন মিডফিল্ডার নিলুফা ইসায়মিন নিলা। সুযোগও এসেছিল, যার দুটিই নষ্ট করেন নেপালের বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করা তহুড়া খাতুন। সহজতম সুযোগটি এসেছিল ম্যাচের ৬০ মিনিটে আনুচিংয়ের থ্রু ধরে দুই ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে পোস্টে ঢোকেন তহুড়া। আগুয়ান গোলরক্ষককে কাটিয়ে তহুড়া যা করলেন তা আসলে ক্ষমার অযোগ্য। এক গোলে পিছিয়ে পড়া ভারত গোল পরিশোধে মরিয়া হয়ে খেলতে চেষ্টা করলেও আনাই মোগেনি ও আখির কারণে সেটা সম্ভব হয়নি। এই জয়ে সাফের মূল আসরে এই ভারতের কাছে হারের প্রতিশোধ নিলো কিশোরীরা।

কমেন্ট
শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •