চৌহাট্টায় ‘ওয়াশব্লক’: বিরোধীতা ‘রহস্যজনক

37 total views, 1 views today

নিউজ ডেক্স:: সিলেট নগরীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট চৌহাট্টা। এ পয়েন্ট থেকে একটু দূরেই হযরত শাহজালাল (রহ.) এর মাজার শরীফের অবস্থান। এছাড়া চৌহাট্টা পয়েন্টে রয়েছে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার, রয়েছে বিভিন্ন ডাক্তারের চেম্বার ও ফার্মেসি। এসব কারণে চৌহাট্টা এলাকায় দিন-রাত সবসময় মানুষের আনাগোনা লেগেই থাকে। কিন্তু এ গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে নেই কোনোও গণশৌচাগার। ফলে প্রায় সময়ই ওই এলাকায় আসা-যাওয়া করতে থাকা মানুষরা পড়েন বিব্রতকর পরিস্থিতিতে।

এরকম অবস্থায় চৌহাট্টা পয়েন্টে একটি ‘ওয়াশব্লক’ (গণশৌচাগার ও গোসলখানা) নির্মাণের উদ্যোগ নেয় সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক)। উন্নয়ন সংস্থা ওয়াটার এইডের সহযোগিতায় এই ‘ওয়াশব্লক’ নির্মাণের কাজ শুরু হয়। সিলেট সিভিল সার্জন ও আলীয়া মাদরাসার পেছনের কিছু জায়গা নিয়ে ওয়াশব্লকের জন্য সীমানাপ্রাচীরও নির্মাণ করে সিটি করপোরেশন। ‘পবিত্রতা নষ্ট হবে’ এমন অযুহাতে হামলা চালিয়ে সেই সীমানাপ্রাচীর ভেঙেছে আলীয়া মাদরাসার ছাত্ররা। মাদরাসা কর্তৃপক্ষের সাথে আগেই কথা বলে শুরু হওয়া ওয়াশব্লক নির্মাণের এমন বিরোধীতাকে ‘রহস্যজনক’ বলছেন সংশ্লিষ্টরা।

সিটি করপোরেশন সূত্র জানায়, ওয়াশব্লক নির্মাণের জন্য আলীয়া মাদরাসার পেছন দিকের কিছু জায়গা ও সিভিল সার্জনের কিছু জায়গা নেয়া হয়। ওই ওয়াশব্লক নির্মাণের আগেই কথা বলা হয় আলীয়া মাদরাসা কর্তৃপক্ষের সাথে। তারা এ ব্যাপারে কোনো আপত্তি তুলেনি। এমনকি বিষয়টি নিয়ে মাদরাসা কর্তৃপক্ষ সিটি করপোরেশনকে চিঠি দিতে বললে তাও দেয়া হয়।

সিসিক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী বলছেন, ‘আলীয়া মাদরাসা কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়েই চৌহাট্টায় ওয়াশব্লক নির্মাণের কাজ শুরু করা হয়। সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে চিঠি দেয়ার পর মাদরাসা কর্তৃপক্ষ ওয়াশব্লকের জন্য স্থানও নির্ধারণ করে দেন। এরপরও এ নিয়ে বিরোধীতা করা রহস্যজনক।’

ওয়াশব্লক নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে মেয়র বলেন, ‘নগরীর ব্যস্ততম এলাকায় ওয়াশব্লক নির্মাণের দাবি নগরবাসীর দীর্ঘদিনের। তাই এই উন্নয়ন কাজে বাধা দেয়ার মাধ্যমে হামলাকারীরা নগরবাসীর প্রত্যাশা পূরণে ব্যাঘাত সৃষ্টি করছেন।’

রবিবার সীমানাপ্রাচীরে হামলাকারী আলীয়া মাদরাসার কয়েকজন শিক্ষার্থী দাবি করেন, মাদরাসার জায়গায় ‘ওয়াশব্লক’ নির্মিত হলে ‘পবিত্রতা নষ্ট হবে’। এজন্য তারা এর বিরোধীতা করছেন।

তবে তাদের এমন দাবি অস্বীকার করছে সিটি করপোরেশন। তারা বলছে, ওয়াশব্লক নির্মাণে পবিত্রতা নষ্ট হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। মাদরাসার জায়গায় ওয়াশব্লকের গোসলখানা এবং সিভিল সার্জনের জায়গায় গণশৌচাগার নির্মাণ করা হচ্ছে।

সিসিকের প্রধান প্রকৌশলী নুর আজিজুর রহমান বলেন, ‘জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট কাজে এরকম বিরোধীতা করা রহস্যজনক। কাদের উসকানিতে এটা করা হচ্ছে, তা খতিয়ে দেখা দরকার।’ মেয়র আরিফের মন্তব্যের সাথে সুর মিলিয়ে নুর আজিজ বলেন, ‘ওয়াশব্লক নির্মাণের আগেই মাদরাসা কর্তৃপক্ষের সাথে সিসিক কথা বলেছে। তাদের দাবির প্রেক্ষিতে আমরা চিঠি দিয়েছি। অনুমতি নিয়েই কয়েকদিন ধরে কাজ চলার পর সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ শেষ হয়। এরপর এই হামলা খুবই দুঃখজনক।’

সিলেটের সচেতন সমাজ জনগুরুত্বপূর্ণ ‘ওয়াশব্লক’ নির্মাণের বিরোধীতাকে এবং হামলার ঘটনাকে ‘সন্ত্রাসী কর্মকা-’ বলে অভিহিত করছেন।

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন), সিলেট চ্যাপ্টারের সভাপতি ফারুক মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘সিলেট নগরীতে শুধু চৌহাট্টায়ই নয়, আরো কয়েকটি জায়গায় এরকম ওয়াশব্লক নির্মাণ করা দরকার। সিটি করপোরেশনের এই উদ্যোগ প্রশংসনীয়। কিন্তু এই কাজে বিরোধীতা করা, হামলা করা সন্ত্রাসী কর্মকা-। আমরা এর নিন্দা জানাচ্ছি। একইসাথে এই হামলার ঘটনায় আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের আহবান জানাচ্ছি।’

কমেন্ট
শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •