ব্যাংকের উপর এখন আর ভরসা নেই

নিউজ ডেক্স:: ভোগবাদী অর্থনীতির কারণে মানুষ সবকিছুই ভুলে যাচ্ছে। দুর্নীতি আর স্বজনপ্রীতির কারণে ব্যাংকের উপর মানুষের আস্থা কমে যাচ্ছে। ব্যাংকের উপর মানুষ এখন আর ভরসা করতে পারছে না। এর উন্নতি করতে হবে। জানালেন সোনালী ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক এস এ চৌধুরী।

রাজধানীর মিরপুরে বাংলাদেশ ইনিস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্ট (বিআইবিএম) অডিটোরিয়ামে করপোরেট ইথিকস অ্যান্ড ফিন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইন ব্যাংকস: বাংলাদেশ পারেসপেক্টিভ শীর্ষক কর্মশালায় তিনি একথা বলেন। বৃহস্পতিবার এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়।

এসময় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর আবু হেনা মোহা: রাজী হাসান।
এস এ চৌধুরী বলেন, পরিচালনা পর্ষদের সঙ্গে ব্যাংকের টপ ম্যানেজমেন্টের দূরত্ব বেড়ে যাচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে ম্যানেজমেন্ট বোর্ডের সঙ্গে আপোষ করে চলছে। ব্যাংকের পরিচালকরা যোগসাজস করে হাজার হাজার কোটি টাকা নিয়ে যাচ্ছে। এটা বন্ধ করতে হবে। কোনো ব্যাংকার অনিয়মের তথ্য দিতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংককে তার নিরাপত্তা দিতে হবে। এছাড়া মানুষের কষ্টের কথা শোনার জন্য আর্থিক ন্যায়পাল গঠনের পরামর্শ দেন তিনি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর আবু হেনা মোহা: রাজী হাসান বলেন, ব্যাংকিং ব্যবসা সম্পূর্ণভাবে আস্থার উপর নির্ভরশীল। আমানতকারীদের আস্থার সংকট শুরু হলে ব্যাংকিং ব্যবসা করা কঠিন হয়ে পড়ে। সম্প্রতি একটি ব্যাংকে আমানতকারীদের মধ্যে আস্থা সংকটের কারণে বড় ধরণের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। গ্রাহকরা তাদের আমানত ফিরিয়ে নেয়া শুরু করেছে।। এই সংকট ব্যবস্থাপনা ব্যাংকটির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মেঘনা ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. নুরুল আমিন বলেন, ইমেজ সংকট একটি ব্যাংকের জন্য খুবই খারাপ দিক। ১০ শতাংশ খেলাপি ঋণ ব্যাংক খাতের জন্য অস্বাভাবিক বলে মন্তব্য করেন তিনি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক নির্বাহী পরিচালক ও বিআইবিএমের সুপারনিউমারারি অধ্যাপক ইয়াছিন আলী বলেন, পারিবারিকভাবেই নৈতিকতা শিক্ষা দিতে হবে। বিশেষ করে ব্যাংকিং খাতের নৈতিকতা খুবই জরুরি। কারণ, এখানে অন্যের টাকায় ব্যবসা করা হয়। সবক্ষেত্রেই কাউকে রোল মডেল হিসেবে নিতে হবে। তবে ব্যাংক ম্যানেজার যদি অপরাধী হয় তাকে রোল মডেল বানানো যাবে না। এই অপরাধীর চেয়েও বড় অপরাধী ইচ্ছাকৃত খেলাপিরা। এদের শাস্তি হওয়া উচিত।

বিআইবিএমের মহাপরিচালক ড. তৌফিক আহমদ চৌধুরী বলেন, বিশ্বব্যাপী ব্যাংকিং খাতে সুশাসন বাস্তবায়ন করা হয়। কিন্তু আমাদের এখানকার বোর্ড সুশাসন বাস্তবায়নের পরিবর্তে ঋণ অনুমোদন নিয়ে ব্যস্ত থাকে। বিশ্বব্যাপী ব্যাংকের বোর্ডের মূল কাজ হলো নীতি প্রণয়ন এবং নজরদারি করা। কিন্তু বাংলাদেশে সুশাসনের সংস্কৃতির প্রচলন নেই।

কর্মশালায় মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন বিআইবিএমের পরিচালক ড. শাহ মো. আহসান হাবীবের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল।

 

কমেন্ট
শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •