মহাসড়কে উন্নীত হচ্ছে সিলেট-সুনামগঞ্জ আঞ্চলিক সড়ক

নিজস্ব প্রতিনিধি-শাফি উদ্দিন ফাহিম:: প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সিলেট-সুনামগঞ্জ আঞ্চলিক সড়ককে মহাসড়কে উন্নীত করার কাজ শুরু হয়েছে। ২০১৯ সালের জুন মাসের মধ্যে এ কাজ শেষ হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতিশ্রুত এ কাজ বাস্তবায়নে ১৪০ কোটি টাকার প্রকল্প শুরু করেছে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়।

সুনামগঞ্জবাসীর দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে ২০১০ সালের ১০ নভেম্বর তাহিরপুর উপজেলায় এক জনসভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সিলেট-সুনামগঞ্জ আঞ্চলিক সড়ককে মহাসড়কে উন্নীত করার ঘোষণা দেন। এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে একই বছর ডিসেম্বরে সড়ক বিভাগ ৩৫০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প প্রস্তাব করে। প্রকল্পের প্রস্তাবনা পরিকল্পনা কমিশনে থাকা অবস্থায় জাইকা’র অর্থায়নে সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়কের ১৩টি পুরনো সেতু ভেঙে ফেলে নতুন পিসি গার্ডার সেতু নির্মাণ করে সড়ক ও জনপথ বিভাগ। ব্যয় হয় প্রায় ২০০ কোটি টাকা। এরপর সড়ক ও জনপথ বিভাগ প্রস্তাবিত প্রকল্পের ব্যয় পুনর্নির্ধারণ করে ১৪০ কোটি টাকার প্রকল্প প্রস্তাব করে। যা গত বছর একনেকের বৈঠকে অনুমোদন করা হয়।

সিলেট সওজ সূত্রে জানা গেছে, সিলেট-সুনামগঞ্জ আঞ্চলিক সড়ক উন্নয়নে ‘সিলেট-সুনামগঞ্জ আঞ্চলিক সড়ক উন্নয়ন’ নামে একটি প্রকল্প গ্রহণ করে সিলেট সড়ক বিভাগ। ২০১৬ সালের ২৯ মার্চ এ প্রকল্পটি একনেকের বৈঠকে পাস করা হয়। ব্যয় ধরা হয়েছে ১৪০ কোটি ৬৪ হাজার টাকা। ৬৮ কিলোমিটার দীর্ঘ এ সড়কে ৪টি প্যাকেজে কাজ হবে। যার মধ্যে সিলেট সড়ক বিভাগের আওতাভুক্ত দুটি এবং সুনামগঞ্জ সড়ক বিভাগের দুটি প্যাকেজ।

বর্তমানে সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়ক ১৮ ফুট প্রস্থ। এ প্রকল্পে সড়কের উভয় পাশে ৩ফুট করে কার্পেটিং এবং ৩ ফুট করে মাটি ভরাট করে সড়কের প্রস্থ হবে ৩০ ফুট। এ ছাড়া সিলেট থেকে সুনামগঞ্জ পর্যন্ত এ সড়কের বিভিন্ন স্থানে পুরনো সেতুর স্থলে নতুন ১০টি আরসিসি কালভার্ট নির্মাণ করা হবে।

সিলেট শহরতলির টুকের বাজারে স্থাপিত বর্তমান ব্রিজটির স্থলে নির্মাণ ৩৬ মিটার দীর্ঘ পিসি গার্ডার ব্রিজ, সড়কের সুনামগঞ্জ অংশের গোবিন্দগঞ্জ, জাউয়া, পাগলা বাজারসহ প্রকল্প এলাকার বিভিন্ন বাজারের দু’পাশে প্রয়োজনীয় ফুটপাথ এবং ড্রেন নির্মাণ করা হবে। প্রায় ৬৮ কিলোমিটার সড়কের পুরোনো কার্পেটিং তুলে নতুন করে কার্পেটিং করা হবে। নির্মাণ করা হবে ৩টি ইন্টার সেকশন বা গোল চত্বর। লামাকাজী এম এ খান সেতুর প্রবেশ পথে নির্মাণ করা হবে এক্সেললোড বা ওজন নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র।

সিলেট সড়ক ও জনপথ বিভাগের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী চন্দন কুমার বসাক বলেন, সিলেট জেলার তেতলী হতে কুমারগাঁও পর্যন্ত ৪ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের প্রথম প্যাকেজের কাজ ইতোমধ্যেই শেষ হয়েছে, যাতে প্রায় ১০ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। কুমারগাঁও হতে গোবিন্দগঞ্জ পর্যন্ত দ্বিতীয় প্যাকেজের কাজের জন্য দরপত্র তৈরির কাজ চলছে, খুব শিগগিরই দরপত্র আহ্বান করা হবে। এই প্যাকেজের ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৪০ কোটি টাকা। এ ছাড়া প্রায় ৮১ কোটি টাকা প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে সুনামগঞ্জ অংশের দুটি প্যাকেজে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার জন্য আমরা চেষ্টা করছি। আশা করছি খুব একটা দেরি হবে না।

এই প্রকল্পের কাজ শেষ হলে সুনামগঞ্জবাসীর দীর্ঘ দিনের অপেক্ষার অবসান হবে। সরু রাস্তা হওয়ায় ব্যস্ততম এ সড়কে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে । প্রশস্ত সড়ক হলে তখন দুর্ঘটনা বহুলাংশেই হ্রাস পাবে। এছাড়া সিলেটের সাথে সুনামগঞ্জের সড়ক যোগাযোগ আরো সহজ হবে। – বাসস

কমেন্ট
শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •